Sunday , 15 September 2019
Home » Islamic » হজ্ব এর আভিধানিক ও শরয়ী অর্থ কী?হজ্ব কার উপর ফরজ কার উপর নয়?হজ্ব কী তাৎক্ষনিক আদায় করা ওয়াজিব নাকী বিলম্বের সাথে?এ ব্যপারে মত পার্থক্য কী?বিস্তারিত বর্ননা

হজ্ব এর আভিধানিক ও শরয়ী অর্থ কী?হজ্ব কার উপর ফরজ কার উপর নয়?হজ্ব কী তাৎক্ষনিক আদায় করা ওয়াজিব নাকী বিলম্বের সাথে?এ ব্যপারে মত পার্থক্য কী?বিস্তারিত বর্ননা

আসসালামু আলাইকুম

মুসলিম জাতির সর্বশ্রেষ্ট ও সর্ববৃহৎ মহা সম্মেলন হলো হজ্ব;যা ইসলামের পঞ্চস্তম্বের অন্যতম। এ পুন্যময় হজ্ব মুসলিম জাতির সামাজিক,রাজনৈতিক আধ্যাত্মিক ঐক্য এবং পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও মমত্ববোধ প্রকৃষ্ট নিদর্শন। প্রত্যেক সামর্থবান মুসলিম এর উপর হজ্ব ফরজ,যা অবস্য পালনীয়।তবে হল্ব ফরজ হওয়ার পরে এইটা তাৎক্ষনিক নাকি বিলম্বের সাথে আদায় করা হবে এ ব্যপারে মতানৈক্য আছে।পোস্টে হজ্ব ও আনুষঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

হজ্ব এর পরিচিতিঃ

হজ্ব শব্দের আবিধানিক অর্থঃহজ্ব শব্দটি দুই ভাবে বলা যায়। যেমনঃ

ক)আল হাজ্জু শব্দের হা বর্ণে যবর যোগে আল হাজ্জু পড়া।

খ)আল হিজ্জু শব্দের হা বর্ণে যের যোগে আল হিজ্জু পড়া।

তবে উভয় কেরাত এর মধ্যে আল হাজ্জু অধিক প্রচলিত,এবং আবিধানিক দৃষ্টিকোনে আল হাজ্জু শব্দের অর্থ হচ্ছে –

১)সংকল্প করা বা ইচ্ছা করা।

২)সাক্ষাত করা।

৩)মহৎ জিনিসের প্রতি ইচ্ছা করা, ইত্যাদি।

হজ্ব এর শরয়ী অর্থঃ

১) শরহে বোকায়া গ্রন্তের টিকাকারের মতে -নির্দিস্ট সময়ে নির্দিস্ট স্থান যেয়ারত করার নামই হজ্ব।

২)আল কামুসুল ফিকহী গ্রন্থ প্রনেতার ভাষায় – মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট সময়ে ও স্থানে নির্দিষ্ট কার্যাবলির মাধ্যমে সম্মানিত বায়তুল্লাহ যেয়ারতের সংকল্প করাকে হজ্ব বলা হয়।

৩)তানযীমুল আসতাত গ্রন্থাকারের মতে – নির্দিষ্ট সময়ে নির্ধারিত নিয়মে সসম্মানে বায়তুল্লাহ যেয়ারতের ইচ্ছা করাকে হজ্ব বলে।

৪)ওমদাতুল ক্বারী প্রনেতার মতে- নির্দিষ্ট কার্যাবলির দ্বারা সম্মানের সাথে বায়তুল্লাহ যেয়ারতের ইচ্ছা করাকেই হজ্ব বলে।


হজ্ব কার উপর ফরজ কার উপর নয়ঃ-

নিম্নোক্ত শর্তাবলি যার মধ্যে বিদ্যমান থাকবে তার উপর হজ্ব ফরজ।যেমন-

১) মুসলমান হওয়াঃকেননা অমুসলিম এর উপর হজ্ব ফরজ নয়।অমুসলিম অবস্তায় কেও হজ্ব করলে তাকে ইসলাম গ্রহনের পরে আবার হজ্ব করতে হবে।

২)স্বাধীন হওয়াঃ দাস সে যেকোন প্রকারের হোক না কেন তার উপর হজ্ব ফরজ নয়।দাস দাসির উপর হজ্ব ফরজ না হওার মৌলিক কারন হল তারা স্বীয় ইচ্ছার উপর সামর্থবান নয়।

৩)বালেগ হওয়াঃকেননা না বালেগ /অপ্রাপ্ত বয়স্ক,মস্তিস্ক বিক্রিতদের উপর হজ্ব ফরজ নয়।

৪)সুস্থ হওয়াঃসাস্থগত ভাবে পুর্ন সুস্থ না হলে তার উপর হজ্ব ফরজ নয়,অর্থাৎ প্রতিবন্ধি,দুর্বল,যানবাহনে আরহনে অক্ষম এমন ব্যাক্তির উপর হজ্ব ফরজ নয়।

৫)দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন হওয়াঃকেননা অন্ধ ব্যাক্তির উপর হজ্ব ফরজ নয়,যদিও তার পথপ্রদর্শক থাকে।

৬)পাথেয় থাকাঃহজ্ব কারির সম্পদের পরিমান ততটুকু হতে হবে ,যাতে যাওয়ার সমস্থ করছের পরে বাড়ি আসা পর্যন্ত পরিবারের জন্য প্রয়োজনিয় সমস্থ করছ বহন করতে পারে।এই পরিমান সম্পদ কারো কাছে না থাকলে তার উপর হজ্ব ফরজ হবে না।

৭)রাস্তা নিরাপদ হওয়াঃরাস্তা নিরাপদ না হলে বা রাষ্টীয় কোন নিষেধাজ্ঞা থাকলে বা কোন যুদ্ধবিগ্রহ , চোর ডাকাত বা হিংস্র প্রানির আক্রমন অথবা শত্রুর ভয় থাকলে হজ্ব ফরয হবে না।

৮)মহিলার সাথে স্বামী বা মাহরাম পুরুষ থাকাঃ যদি তার বাড়ী কাবা ঘর থেকে ৪৮ মাইল বা তার বেশী দুরত্বে অবস্থিত হয় তাহলে সাথে স্বামী বা মাহরাম (বিবাহ বন্ধন হারাম এমন পুরুষ) ব্যাক্তি থাকতে হবে অন্যতায় হজ্ব ফরজ হবে না।

৯)যানবাহনের সুবিধা থাকাঃকেননা যানবাহনের সুবিধা না থাকলে হজ্ব ফরজ হবে না।

১০)জ্ঞানবান হওয়াঃকেননা পাগলের উপর হজ্ব ফরজ নয়।

১১)কয়েদি না হওয়াঃকারাবন্ধির উপর হজ্ব ফরজ নয়।এমনকি তাদের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি পাঠানো ও জরুরী নয়।তবে অন্য বর্ননা মতে তারা প্রতিনিধি প্রেরনের মাধ্যমে হজ্ব আদায় করে নিতে পারবে।

উপরোক্ত শর্তাবলির একটিও অনুপস্থিত থাকলে ব্যাক্তির উপর হজ্ব ফরজ্ হবে না।

হজ্ব তাৎক্ষনিক নাকী বিলম্বের অবকাশ সহ ওয়াজিবঃ-

মহান আল্লাহ তায়ালার ঘোষনা – ওয়ালিল্লাহি আলান্নাসি হিজ্জুল বাইতি মানিস তাথায়া ইলাইহি সাবিলান।

এ ঘোষনা অনুযায়ী সকল আলেম ও ফকিহ ঐক্যমত পোষন করেন যে , সামর্থবান ব্যাক্তির উপর জীবনে একবার হজ্ব আদায় করা ফরজ যা মৃত্যুর পূর্বে অবশ্যই পালনীয়।কিন্তু কারো উপর হজ্ব ফরজ হওয়ার পরে তাকি ঐ বচর ই আদায় করা ফরজ নাকী বিলম্বের অবকাশ আছে এই ব্যপারে ইমামদের মাঝে মত বিরোধ রয়েছে।যেমন-

১) ইমামত্রয়ের অভিমতঃ ইমামা আবু হানিফা ,শাফেয়ী ও মুহাম্মাদ (রঃ) এর মতে হজ্ব বিলম্বের অবকাশ সহ ফরজ।।

দলীলঃতাদের দলীল হলো—

ক. যেসব শব্দ দ্বারা হজ্ব ফরজ হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এগুলো তাৎক্ষনিক পালন করা ফরজ হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত করে না।

খ.হজ্ব ষষ্ট বা নবম হিজরীতে ফরজ হয়েছে আর রাসুল (সঃ) আদায় করেছেন দশম হিজরীতে।আর যদি তাৎক্ষনিক আদায় করা ফরজ হতো তাহলে রাসুল (সঃ) বিলম্ব করতেন না।

গ.সালাতকে যেমন শেষ ওয়াক্ত পর্যন্ত বিলম্ব করা যায় তেমনি হজ্ব কেউ বিলএমবি করা যাবে।

২) মালেক,আহমদ ও আবু ইউসুফের অভিমতঃইমাম মালেক ,আহমদ ও আবু ইউসুফ এর মতে হজ্ব ফরজ্ব হওার সাথে সাথে ঐ বছরই পালন করে নিতে হবে।

দলীলঃ তাদের দলীল হলো–

ক.মহা নবী (সঃ)এর বানি -যে ব্যাক্তি হজ্বের ইচ্ছা করবে, সে যেন তাড়াতাড়ি করে।

খ.জীবনের কোন নিশ্চয়তা নেই,তাই তাৎক্ষনিক ভাবে হজ্ব আদায় করতে হবে।

প্রতিপক্ষের দলিল এর প্রত্যুত্তরঃ

ক.ইমাম আবু ইউসুফের পেশকৃত হাদিসের প্রত্তুত্তরে বলা হয়,এখানে আদেশ সুচক ক্রিয়াটি ওজুব এর জন্য নয় বরং ইসতিসবাব এর জন্য।তাই তাড়াতাড়ি আদায় করা মুস্তাহাব ওয়াজিব নয়।

খ.জীবনের অনিশ্চয়তার অজুহাতে হজ্ব কে তাৎক্ষনিক ওয়াজিব বলা যাবে না বরং উত্তম বলা যাবে।

About Mir Md Aminul Haque

প্রযোক্তিকে ভালবাসি ,নিত্য জানতে চাই নতুন কিছু,ছড়িয়ে দিতে চাই উজার করে নিজের জ্ঞান সবার মাঝে।

Check Also

deactivate laptops built in keyboard

deactivate laptops built in keyboard – দেখেনিন কিভাবে।

deactivate laptops built in keyboard এই পোস্টটা আপনার জন্য খুবই দরকারি ,যদি আপনি laptop user…

2 comments

  1. test comment

  2. This is a person need set more along with energy into the search process.
    In case to provide an any difficulty, contact the remote computer support providers.
    This is a very my favorite Fall/Winterexercises. https://call-tech-support.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published.